1. info@aynatv.info : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@aynatv.info : admin :
রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

রাজনীতি নিষিদ্ধ: বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদলের

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন বেরোবি প্রতিবেদক | সকল ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী এবং রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেরোবি শাখা সমর্থিত শিক্ষার্থীরা।রবিবার (২৫ জানুয়ারী) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সকাল সাড়ে ১০টায় শিবির এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ছাত্রদল এই সংবাদ সম্মেলন করে।সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন শিবির সমর্থিতরা। অন্য দিকে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ, দায়িত্ব পালন ও বিভিন্ন ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র সংসদ প্রসঙ্গে উপাচার্যের অনগ্রসরতার অভিযোগ তুলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেহেদি হাসান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পরও ছাত্র সংসদ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশার তৈরি হয়েছে। উপাচার্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারকে উপেক্ষা করেছেন। “কৌশলগতভাবে কাল ক্ষেপণ করে” জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র সংসদ নির্বাচন “বানচালে”-ও তাঁর যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. শওকাত আলী নিয়োগ দুর্নীতি করেছেন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী উপাচার্যদের সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অনৈতিকভাবে তাদের বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে দুদকের মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বেরোবি থেকে যে আয় হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে যুক্ত করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা বলেন, বর্তমান উপাচার্যের প্রধান দায়িত্ব ছিল অতীত প্রশাসনের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিচার করা। কিন্তু তিনি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বাজেট আত্মসাৎ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবৈধ নিয়োগ তদন্তে একাধিক কমিটি হলেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এসব অনিয়ম আড়াল করতে উপাচার্য একটি বিশেষ মহলের ওপর নির্ভর করছেন দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় শিবির সমর্থিতদের পক্ষ থেকে।অপর দিকে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি শাখা ছাত্রদল রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা বলেন, “অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া” রেজিস্ট্রার বেরোবি ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। তাঁরই নির্দেশনায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার” চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।তুহিন অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার “অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে” বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এবং একটি “গুপ্ত গোষ্ঠীর সহায়তায়” উসকানিমূলক ও দলীয় প্রচারণায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়ের করা মামলায় “সহযোগিতার পরিবর্তে রেজিস্ট্রার অসহযোগিতা” করেছেন, যার ফলে আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে একটি “গুপ্ত গোষ্ঠী এবং তাদের ছাত্রী সংগঠনের” সঙ্গে রেজিস্ট্রারের নিয়মিত বৈঠকের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রতিটি তদন্ত কমিটিতে ওনি “খেয়ালখুশি মতো” প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারসাম্য নষ্ট করছেন। বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে বৈঠকও করছেন। এ ধরনের “অনিয়ম সহ্য করা হবে না” বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।ছাত্রদলের দাবি, উপাচার্যের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তাঁর উদ্যোগে আবু সাঈদ ফটক, রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও, “রেজিস্ট্রার ও একটি গুপ্ত গোষ্ঠীর অসহযোগিতার কারণে” বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।এ দিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীও বিষয়টি নিয়ে বারবার কড়া বার্তা দিয়ে এলেও, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সেই সিদ্ধান্তকে বেশ কয়েকবার বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নতুন সংস্কার ও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ছিল, তা প্রশাসনিক গাফিলতি এবং ছত্রছায়ায় বারবার বিনষ্ট হয়ে গেছে। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুটি ছাত্র সংগঠনের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2024